দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরের শার্শা উপজেলার রায়পুর-সোনামুখো বিলে এএফ মৎস্য খামারে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ার পেছনে লোডশেডিংকে দায়ী করার দাবির সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। তদন্তে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আগেই খামারে মাছ মারা শুরু হয়েছিল।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২৫ আগস্ট সরেজমিনে খামারটি পরিদর্শন করে। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের নথি যাচাই, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা যায়, ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে এর আগে ও পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগেই খামারে মাছ মারা শুরু হওয়ার তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে মাছের মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত মাছের মজুত, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ এবং পানিতে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের অস্বাভাবিক আধিক্য রয়েছে।
এ ছাড়া পানির পিএইচ, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা এবং মাছের মজুদের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থাকেও মাছের মৃত্যুর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেটর চালু রাখার জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ বা জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকাকেও খামার ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে তদন্ত কমিটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খামার মালিকপক্ষ বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানালেও জরুরি সময়ে পর্যাপ্ত এয়ারেশন সচল রাখার মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না রাখাসহ সামগ্রিক খামার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ছিল।
প্রসঙ্গত, ২১ আগস্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে শার্শার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এএফ মৎস্য খামারে মাছ মারা শুরু হয়। পরদিন সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে ওঠে।
ওই সময় খামার মালিকপক্ষের দাবি ছিল, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এয়ারেটর চালানো সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে মাছের ব্যাপক মৃত্যু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এএফ মৎস্য খামারটি আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে পরিচালনা করছিলেন।
এমএম/